সারাদেশ

তথ্য সংগ্রহে গিয়ে অবরুদ্ধ সাংবাদিকরা নেত্রকোনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ১২ ঘণ্টা আটকে রাখার দাবি

  প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২৯:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে গিয়ে ঢাকায় কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাঁদের আটক ও নির্যাতন করা হয়। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (কেন্দুয়া–আটপাড়া সার্কেল) গোলাম মোস্তফার নির্দেশে কেন্দুয়া থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—ঢাকায় কর্মরত দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার মাইনুল ইসলাম ইমন, বিডি ক্রাইমস-এর গিয়াস উদ্দিন রানা, বিবিসি নিউজ ২৪-এর নিজস্ব সংবাদদাতা তারেক রহমান ফয়সাল, বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি কোহিনূর আলম এবং জাতীয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার কেন্দুয়া প্রতিনিধি সালমান আহমেদ।

আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে, গাজীপুর সদরে দায়ের হওয়া একটি নারী নির্যাতন মামলার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁরা কেন্দুয়ায় গেলে তাঁদের বীরমোহন গ্রামের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের ক্যামেরা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং এক সাংবাদিকের গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি জোরপূর্বক কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কেন্দুয়া থানাকে বিষয়টি জানানো হলেও কীভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলেন?
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানা গেছে। পরে সাংবাদিকদের থানায় নেওয়া হয় এবং সার্কেল পুলিশের নির্দেশে মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের জিম্মায় তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

অভিযুক্তদের নাম ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনায় সান্দিকোনা ও গন্ডা ইউনিয়নের কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতা জড়িত। তাঁদের মধ্যে যুবদল নেতা মো. ওয়াসিম, গন্ডা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মো. স্বপন, মো. রনি, মোহাম্মদ আলমগীর, অভিযোগকারী আনাসের ভাই মো. একরাম ও চাচাতো ভাই সুমন, গন্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কল্যাণ এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক ইউপি সদস্য রতন মিয়া ওসমান রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, আটককারীরা প্রকাশ্যে হুমকিস্বরূপ বলেন—এই এলাকায় অনুমতি ছাড়া সাংবাদিক বা কেউ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না।
সাংবাদিক মহলে প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা, গাজীপুর ও কেন্দুয়ায় ধারাবাহিক মানববন্ধন কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনেও কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

Author

আরও খবর

Sponsered content