সারাদেশ

ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে টুপির বাজারে আগুন! চাহিদা বাড়ায় দাম দ্বিগুণ

  প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:১১:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সামনে রেখে দেশের বাজারে টুপির চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা ধর্মীয় ভাবাবেগ কাজে লাগাতে এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে টুপির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ‘টুপির রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা এখন একটি লাভজনক মৌসুমি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

অস্বাভাবিক চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি:
নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা নিজেদেরকে ধর্মীয় ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি প্রমাণ করতে টুপি পরিধান করেন। এর প্রভাবে তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও টুপির ব্যবহার বেড়ে যায়। বিশেষ করে সাদা জালি টুপি, সুতির টুপি এবং সাধারণ কাপড়ের টুপির বিক্রি বেড়েছে বহুগুণ।বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ সময়ে যে টুপি পাইকারি বাজারে ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হতো, নির্বাচনের ডামাডোলে এখন তা ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি। ভালো মানের টুপি, যা আগে ৫০-৭০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা দৈনিক মুক্তকথন নিউজ কে বলছেন, এই মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাতারাতি উৎপাদন বাড়ানোর কারণে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ফলেই দাম বেড়েছে।”নির্বাচন যতই কাছে আসছে, টুপির চাহিদা ততই বাড়ছে। এই সময়টা টুপির ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক।”

টুপির রাজনীতি’ ও জনমত: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা হঠাৎ করে টুপি পরিধান করে ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে তাদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রার্থীরা এই প্রতীকী ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে চান যে তারা ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।তবে সমালোচকরা এই প্রবণতাকে ‘মৌসুমি মুসলিম’ বা ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন । তাদের মতে, প্রার্থীর এই টুপি পরার মধ্যে কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক দায় নেই, আছে কেবল ভোট হাতিয়ে নেওয়ার মতলব। এই ধরনের ‘টুপির রাজনীতি’ এখন বাজারে একটি নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি করছে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের বেশি দামে টুপি কিনতে হচ্ছে।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, টুপির বাজারে এই চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Author

আরও খবর

Sponsered content